লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে উঠে এলো নতুন আপডেট, জেনে নিন এখনই।

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের তরফে নারী কল্যাণের উদ্দেশ্যে যে সমস্ত প্রকল্পগুলি কার্যকর করা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য প্রকল্পটি হল লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প। একুশের বিধানসভায় নির্বাচনে একচেটিয়া জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমগ্র রাজ্যের মহিলাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প কার্যকরী করেছিলেন। আর ইতিমধ্যেই এই প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তবে সমস্যা অন্যক্ষেত্রে। রাজ্য সরকারের তরফে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে জানা গিয়েছে যে, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের আওতায় বহু সংখ্যক মহিলা অন্যায়ভাবে অনুদানের টাকা পেয়ে থাকেন, যার কারণে বহু সংখ্যক যোগ্য মহিলা এই প্রকল্পের আওতায় অনুদানের টাকা পান না।

আর এই বিষয়টি নিয়ে বারংবার নানা ধরনের তথ্য এবং অভিযোগ উঠে আসছিল। আর তাতেই এই সমস্ত অভিযোগ এবং দুর্নীতির মীমাংসা করার জন্য রাজ্য সরকারের তরফে এক নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই নবান্নের তরফে প্রকাশিত এক নির্দেশিকায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকরী লক্ষ্মীর ভান্ডার সম্পর্কিত এই নয়া আপডেট নিয়ে সমস্তরকম তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এই নয়া আপডেট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নেওয়া যাক:-

ইতিপূর্বে লক্ষীর ভান্ডারের আওতাভুক্ত সমস্ত মহিলাদের নানাবিধ তথ্য ভেরিফিকেশন করার সময় বারংবার দেখা গিয়েছিল যে, বহু মহিলায় জয়েন্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আবেদন জানিয়েছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে একাধিক মহিলা একটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লক্ষ্মীর ভান্ডারের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন এইরূপ নজিরও দেখা গিয়েছিল। আবার অনেক মহিলাই তাদের বয়স পরিবর্তন করে ভুয়ো আধার কার্ডের মাধ্যমে লক্ষ্মীর ভান্ডারের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন। আর এই সমস্ত দুর্নীতি বন্ধ করার জন্যই রাজ্য সরকারের তরফে এবারে এই নতুন পদক্ষেপ কার্যকর করা হয়েছে। বিগত ৩১শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতরের তরফে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে লক্ষ্মীর ভান্ডারের আওতাভুক্ত সমস্ত মহিলাদের উদ্দেশ্যে জানানো হয়েছিল যে, যেসকল মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে তাদের আধার নম্বর যুক্ত রয়েছে তারাই কেবলমাত্র লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের আওতায় অনুদানের টাকা পাবেন। অন্যথা কোনোভাবেই লক্ষ্মীর ভান্ডারের আওতায় অনুদানের টাকা পাওয়া সম্ভব হবে না।

লক্ষ্মীর ভান্ডার সহ রাজ্য সরকারের তরফে কার্যকরী অন্যান্য প্রকল্পগুলির অনুদানের টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সুবিধাভোগী নাগরিকদের কাছে পাঠানো হয়ে থাকে। আর প্রকল্পের অনুদান প্রদান থেকে শুরু করে গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তা পৌঁছে যাওয়া পর্যন্ত সমস্ত প্রক্রিয়াটিতে যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে তার জন্যই রাজ্য সরকারের তরফে এইরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে ওয়াকিবহাল মহলের কর্তা ব্যক্তিদের তরফে। কোনো অযোগ্য নাগরিক যাতে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধার না পান এবং সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের কাছে যাতে এই প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে যায় তা নিশ্চিত করার জন্যই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের তরফে এই নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, এমনটাই দাবী করছেন প্রশাসনিক মহলের কর্তারা। তবে শুধুমাত্র রাজ্য সরকার নয়, ইতিপূর্বে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফেও এই একই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। আর তাই অনেকেই মনে করছেন, আধার বেসড পেমেন্ট সিস্টেম চালু করে সমস্ত রাজ্যের নাগরিকদের কাছে সরাসরি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের প্রদর্শিত পথে হাঁটতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার।

তবে এখানেই শেষ নয়। নতুন বছরের শুরুতে এবং ২০২২ -এর শেষেও লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে আরো দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ জারি করা হয়েছিল রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। আর লক্ষ্মীর ভান্ডার সম্পর্কিত এই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলি হল:-

আরও পড়ুন:- উচ্চ মাধ্যমিক পাশে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মী নিয়োগ

৬০ বছরের পরেও মিলবে লক্ষ্মীর ভান্ডারের অনুদান:- লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প কার্যকর করার সময় রাজ্য সরকারের তরফে সমগ্র রাজ্যের মহিলাদের উদ্দেশ্যে জানানো হয়েছিল যে, কেবলমাত্র ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলারা এই লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। এর পাশাপাশি আরো জানানো হয়েছিল যে, জেনারেল এবং ওবিসি ক্যাটাগরিভুক্ত মহিলারা লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক মাসে ৫০০ টাকা করে অনুদান পাবেন এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক মাসে ১,০০০ টাকা করে অনুদান পাবেন। কিন্তু ২০২৩ -এর শুরুতে এই নিয়মে পরিবর্তন এনে আরও জানানো হয়েছিল যে, ৬০ বছরের পরেও মহিলারা লক্ষ্মীর ভান্ডারের আওতায় অনুদান পাবেন। এমনকি এও জানানো হয়েছিল যে, ৬০ বছর বয়স হলেই লক্ষ্মীর ভান্ডারের আওতাধীন সমস্ত মহিলাই ১,০০০ টাকার পেনশন পাবেন।

পরবর্তীতে এই প্রসঙ্গে প্রশাসনিক মহলের তরফে জানানো হয়েছিল যে, ৬০ বছর বয়সের পর লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধাভোগী মহিলারা সরকারের নিয়ম অনুসারে বার্ধক্য ভাতার আওতায় চলে আসবেন, আর তাই ৬০ বছরের পর থেকে লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধাভোগী সমস্ত মহিলাই প্রতি মাসে ১,০০০ টাকার পেনশন পাবেন। ৬০ বছর বয়সের পর রাজ্যের বয়সপ্রাপ্ত মহিলাদের যাতে পৃথকভাবে বার্ধক্য ভাতার জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে কোনরকম সমস্যার সম্মুখীন না হতে হয় তার জন্যই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে এই নতুন পদক্ষেপ কার্যকর করা হয়েছে, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের ব্যক্তিত্বরা।

বিধবা ভাতা এবং লক্ষীর ভান্ডারের অনুদানের টাকা একই সাথে পাওয়া যাবে:- ২০২১ -এর বিধানসভা নির্বাচনের পর লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প কার্যকর করার সময় তৃণমূল সরকারের তরফে জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছিল যে, লক্ষ্মীর ভান্ডারের আওতাধীন মহিলারা অন্য কোন প্রকল্পের আওতায় অনুদানের টাকা পাবেন না। অর্থাৎ একই সাথে দুটি প্রকল্পের আওতায় অনুদানের টাকা পাওয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। কিন্তু ২০২২ সালের একেবারে শেষ দিকে এই নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছিল। রাজ্যের বিধবা মহিলাদের উন্নয়নের বিষয়টি মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২২ সালের একেবারে শেষে ঘোষণা করেছিলেন যে, আগামী দিনে বিধবা ভাতা এবং লক্ষ্মীর ভান্ডারের আওতায় একইসাথে অনুদানের টাকা পাওয়া যাবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাজ্যের বিধবা মহিলাদের সন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আর তাই পশ্চিমবঙ্গের বিধবা মহিলাদের আর্থিক সহায়তা করার জন্যই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে এইরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে।