পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ১ লক্ষ ২৫ হাজার শূন্যপদে কর্মী নিয়োগ, চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিলে মুখ্যমন্ত্রী।

সমগ্র ভারতবর্ষের জনগণ বর্তমানে অর্থনৈতিক মন্দা এবং মূল্যবৃদ্ধির জেরে রীতিমতো নাজেহাল। আর এই অর্থনৈতিক মন্দা এবং মূল্যবৃদ্ধির কারণে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সরকারি এবং বেসরকারি ক্ষেত্রের চাকরি। তবে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক মন্দা কিংবা মূল্যবৃদ্ধি নয় দুর্নীতির কারণেও সরকারি ক্ষেত্রের চাকরি থেকে বারংবার বঞ্চিত হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা। আর প্রাথমিক টেট সহ অন্যান্য চাকরির ক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে বিগত কয়েক বছরের রীতিমতো তোলপাড় হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা বিচার পাওয়ার আশায় বারংবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আর এই সমস্ত ঘটনার সাক্ষী হয়ে রয়েছেন সমগ্র পশ্চিমবঙ্গবাসী। এখনো পর্যন্ত বহু চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া দুর্নীতি নিয়ে মামলা এবং তদন্ত উভয়ই চলছে। আর এমতাবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে সমগ্র রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে এমন এক ঘোষণা করা হলো যা পুনরায় পশ্চিমবঙ্গের চাকরিপ্রার্থীদের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার ঘটাচ্ছে।

আজ্ঞে হ্যাঁ, পঞ্চায়েত নির্বাচনের ঠিক পূর্বে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে সমগ্র রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশ্যে জানানো হয়েছে যে, আগামী দিনে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি ক্ষেত্রে ১ লক্ষ ২৫ হাজার চাকরিপ্রার্থীকে চাকরি প্রদান করা হবে। বিগত ৩০ শে মে মঙ্গলবার নবান্নের এক বৈঠকে চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশ্যে এই বিশেষ ঘোষণাটি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এখানেই শেষ নয়, এদিনের বৈঠকে রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় আরও জানিয়েছেন যে, এই ১ লক্ষ ২৫ হাজার শূন্য পদে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কর্মী নিয়োগ করতে উদ্যোগী পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার। প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে পুলিশ, ডাক্তার সহ রাজ্যের অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিতে এই সমস্ত কর্মীদের নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের তরফে। এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আরো জানিয়েছেন যে, আগামী ১-২ মাসের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে এই সমস্ত কর্মীদের নিয়োগ করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পূর্বেই এই ১ লক্ষ ২৫ হাজার শূন্যপদে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর থেকেই আগামী দিনে রাজ্য সরকারের তরফে কোন ক্ষেত্রে কত সংখ্যক কর্মী নিয়োগ করা হবে তা জানতে রীতিমতো উৎসুক হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের চাকরিপ্রার্থীরা। আর চাকরিপ্রার্থীদের এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তরও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনের বৈঠকেই দিয়েছেন। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ অনুসারে কোন ক্ষেত্রে কত সংখ্যক পদে চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ করা হবে:-

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে, প্রাথমিক শিক্ষক পদে ১১,০০০ নতুন শিক্ষক চাকরি পাবেন। অন্যদিকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ১৪ হাজার ৫০০ জন নতুন শিক্ষককে নিয়োগ করা হবে বলেই জানা গিয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সরকারি এবং সরকারি সাহায্য প্রাপ্ত কলেজগুলিতে ২,২০০ জন অধ্যাপক নিয়োগ করা হবে বলেই জানা গিয়েছে নবান্ন সূত্রে প্রকাশিত রিপোর্টে। এর পাশাপাশি পুলিশের বিভিন্ন পদে প্রায় ২০ হাজার কর্মীকে নিয়োগ করা হবে বলেই জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই পুলিশের নানাবিধ পদে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া কার্যকর করা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে, এমনটাই জানা গিয়েছে বিভিন্ন সূত্রের তরফে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুসারে। এছাড়াও ৩,০০০ এক্সাইজ কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে বলেই জানানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে।

আরও পড়ুন:- আবেদন করুন বিকাশ ভবন স্কলারশিপে এবং পেয়ে যান বাৎসরিক ৯৬ হাজার টাকা

এদিনের বৈঠকে মুখমনন্ত্রী আরো জানিয়েছেন যে, স্বাস্থ্য দপ্তরে ২০০০ ডাক্তার এবং ৭০০০ নার্স নিয়োগ করা হবে। রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডাক্তার এবং নার্সের কমতি থাকার অভিযোগের কারণেই রাজ্য সরকারের তরফে এইরূপ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহলের ব্যক্তিত্বদের তরফে। অন্যদিকে সাধারণ জনগণের সুবিধার্থে ২০০০ কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার এবং ৭ হাজার আশা কর্মী নিয়োগ করা হবে বলেই জানা গিয়েছে নবান্ন সূত্রে প্রকাশিত রিপোর্টে। এছাড়াও সমাজকল্যাণ দপ্তরের অধীনে অঙ্গনওয়াড়ি ওয়ার্কার পদে ৯৪৯৩ জনকে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে নিয়োগ করা হবে বলেই জানানো হয়েছে। শুধুমাত্র অঙ্গনওয়াড়ি ওয়ার্কার নয়, আগামী দিনে অঙ্গনওয়াড়ি হেল্পার পদে ১৩ হাজার ৫২৬ কর্মীকে নিয়োগ করা হবে বলেই জানানো হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে প্রকাশিত রিপোর্টে। তবে এখানেই শেষ নয়, আগামী বছর লোকসভা নির্বাচনের পূর্বে রাজ্য সরকারের আওতাধীন অন্যান্য পদগুলির অধীনে আরো ১৭ হাজার কর্মীকে নিয়োগ করা হবে বলেই জানানো হয়েছে নবান্নের তরফে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এদিনের এই বৈঠকে রাজ্যব্যাপী ১ লক্ষ ২৫ হাজার শূন্যপদে চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ বার্তা ছাড়াও সমগ্র রাজ্যের নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু বার্তা দেওয়া হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর তরফে। আর মুখ্যমন্ত্রীর এইরূপ বার্তার কারণেই আগামী দিনে কোনরূপ দুর্নীতি ছাড়াই রাজ্য সরকার অধীনে সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে এই ১ লক্ষ ২৫ হাজার শূন্যপদে কর্মী নিয়োগ করা হবে বলেই মনে করছেন পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ। নতুন অর্থবর্ষের একেবারে শুরু থেকেই পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকদের জন্য একের পর এক বিশেষ চমক রাখা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে। আর তারপরই রাজ্যব্যাপী ১ লক্ষ ২৫ হাজার শূন্যপদে কর্মী নিয়োগের এই বিজ্ঞপ্তি।

বর্তমানে যখন টেট দুর্নীতি নিয়ে আদালতের তরফে একের পর এক নির্দেশ প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে ঠিক সেই মুহূর্তেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিশেষ ঘোষণায় পশ্চিমবঙ্গের চাকরিপ্রার্থীরা আবারও আশায় বুক বাঁধছেন। যদিও অনেকেই মনে করছেন, বিগত বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে দেশের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মী নিয়োগের যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল তার অনুকরণেই রাজ্য সরকারের তরফে এই বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। অর্থাৎ রাজ্যব্যাপী নিয়োগের ক্ষেত্রেও এবার কেন্দ্রের দেখানো পথে হাঁটতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার। যদিও এই বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা তৃণমূল শিবিরের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের তরফে কোনরূপ উত্তর দেওয়া হয়নি। তবে নিয়োগ ক্ষেত্রে এই সমস্ত বিতর্ককে আমল দিতে রাজি নন পশ্চিমবঙ্গের চাকরিপ্রার্থীরা। মুখ্যমন্ত্রীর এই নতুন ঘোষণা আরও একবার খুশির জোয়ারে গা ভাসিয়েছেন রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীরা।