Prachesta Scheme – প্রচেষ্টা প্রকল্প কি? এই প্রকল্পের কি সুবিধা? কিভাবে আবেদন করবেন?

রাজ্যের সরকার আমজনতার জন্য নানান ধরনের প্রকল্প এর মধ্যে প্রচেষ্টা স্কিম (Prachesta Scheme) অন্যতম। এই প্রকল্পগুলি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু মানুষের জীবনধারণে সাহায্য করে। তাঁদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা প্রকল্প গুলির অন্যতম উদ্দেশ্য। আজকের প্রতিবেদনে আমরা আলোচনা করব সরকারের প্রচেষ্টা স্কিম (Prachesta Scheme) নিয়ে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলারা প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। রাজ্যবাসী কিভাবে প্রচেষ্টা প্রকল্পে (Prachesta Scheme) আবেদন করবেন? এর জন্য কোন কোন যোগ্যতা লাগবে? সবটা তুলে ধরা হলো আজকের প্রতিবেদনে। অবশ্যই সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি পড়ে নেবেন।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ (Lakkhir Bhandar) প্রকল্পের কথা আমরা সবাই জানি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মহিলাদের জন্য এই প্রকল্পের শুরু করেছিলেন কিছু বছর আগেই। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে রাজ্যে সাধারণ শ্রেণীর মহিলারা প্রতিমাসে ৫০০ টাকা করে আর সংরক্ষিত শ্রেণীর মহিলারা মাসে ১,০০০ টাকা করে পেতেন। কিন্তু ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ (Lakkhir Bhandar) প্রকল্পে এবার থেকে ভাতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে সাধারণ শ্রেণীর মহিলারা প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা করে আর সংরক্ষিত শ্রেণীর মহিলারা ১২০০ টাকা করে পাবেন। লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের কথা জানলেও অনেকেরই জানা নেই রাজ্য সরকারের প্রচেষ্টা প্রকল্পের বিষয়ে।‌ কি এই প্রকল্প? আসুন সবটা জানা যাক।

West Bengal Prachesta Scheme 2024

রাজ্যে সরকারের প্রচেষ্টা প্রকল্পটি লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের মতোই মহিলা জনসাধারণের জন্য। এই প্রকল্পের মাধ্যমেও প্রতি মহিলা ১,০০০ টাকা করে আর্থিক সাহায্য পাবেন। রাজ্যে চালু হওয়া এই প্রকল্পে আবেদন করলেই প্রতিমাসে এক হাজার টাকার ভাতা পাওয়া যায়। এই প্রকল্পটি রাজ্য সরকারের ভাতা প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি।

আরও পড়ুন: LIC Recruitment 2024: LIC-তে বিপুল কর্মী নিয়োগ, নবম শ্রেণী পাশে বেতন ৭০০০ টাকা

কোভিড মহামারির সময় থেকে রাজ্য সরকার যে সকল প্রকল্প চালু করেছে তার মধ্যে একটি হলো প্রচেষ্টা প্রকল্প । করোনার সময় অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত বহু মানুষ জীবিকাহীন হয়ে পড়েন। তাঁদের দিকে সরকারি সাহায্য রূপে প্রচেষ্টা প্রকল্প চালু হয় পশ্চিমবঙ্গে। সরকারের তরফে আবেদনকারীদের ব্যাংক একাউন্টে ১০০০ টাকা করে পাঠানো হয়। এতে স্বাচ্ছন্দ না থাকলেও জীবন যাত্রা থামে না। খেয়ে, পরে দিন কাটাতে পারেন তারা। যদি আজও এমন কেউ থাকেন যারা সরকারের প্রচেষ্টা প্রকল্পে আবেদন জানাতে চান, তাঁরা অবশ্যই তারbবিবরণ জেনে নিন।

Eligibility

১) পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী অধিবাসীরা সরকারের এই প্রকল্পে আবেদন জানাতে পারবেন।
২) অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীরা প্রচেষ্টা প্রকল্পের অংশ হতে পারবেন।
৩) আবেদনকারী যেন তাঁর পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস হয়ে থাকেন।
৪) অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মী যিনি তাঁর জীবিকা হারিয়েছেন, তিনি এই প্রকল্পে আবেদনযোগ্য।

৫) প্রচেষ্টা প্রকল্পে আবেদনরত ব্যক্তির পরিবারে যেন অন্য কেউ (স্বামী, স্ত্রী, সন্তান) জীবিকার সাথে যুক্ত না থাকেন।
৬) একজন পরিবার থেকে একজন সদস্যই এই প্রকল্পে আবেদন জানানোর যোগ্য।
৭) আবেদনকারী যেন অন্য কোন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা না নেন।

Application Process

রাজ্য সরকারের ‘প্রচেষ্টা প্রকল্পে’ আবেদন জানানো কিভাবে? আসুন সে বিষয়ে স্টেপ বাই স্টেপ জানা যাক।

১) পশ্চিমবঙ্গে ‘প্রচেষ্টা প্রকল্পের’ আবেদন জানানো যাবে অফলাইন মারফত।
২) আবেদনকারীকে পৌরসভার অফিসে অথবা জেলার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটের অফিসে যেতে হবে। সেখানে গিয়ে জমা দিতে হবে Annexure A ফর্ম। এছাড়া আপনি দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে গিয়েও আবেদন জমা করতে পারেন।

৩) অ্যাপ্লিকেশন ফর্মটি নিজে হাতে নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হবে। সমস্ত তথ্য যথাযথভাবে উল্লেখ করবেন। ‌
৪) আবেদন জানানোর জন্য কিছু প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট লাগবে। ‌সেগুলি জমা করবেন।
৫) আবেদন জানানো হয়ে গেলে আপনি যদি উপযুক্ত হন, তাহলে আপনার ফোনে মেসেজ চলে আসবে। তারপর আপনার ব্যাংক একাউন্টে সরকারের তরফে টাকা পাঠানো হবে।

Last Date

রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য লাস্ট ডেট কবে তা নিয়ে নিশ্চয়ই আপনাদের মনে প্রশ্ন এসেছে। আসলে এই প্রকল্পের জন্য আবেদনে কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। করোনার সময় থেকে এই প্রকল্প এখনো চলছে। আপনি যদি যোগ্য হন এবং উপরোক্ত পদ্ধতি মেনে সঠিক ভাবে অ্যাপ্লিকেশন করেন, তাহলে সরকারের তরফে সাহায্য পাবেন। সরাসরি আপনার ব্যাংক একাউন্টে চলে আসবে প্রকল্পের টাকা।