রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে চান? তবে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন এই খাবারগুলি

সময়ের সাথে সাথে মানব সভ্যতার যত উন্নতি ঘটছে ততই সমগ্র পৃথিবী জুড়ে নানা ধরনের রোগের সংক্রমণও বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এই সমস্ত রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে সুস্থভাবে দীর্ঘদিন বাঁচার জন্য যেমনভাবে ওষুধ এবং সাবধানতা প্রয়োজন ঠিক তেমনভাবেই আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি বাড়িয়ে তোলাও প্রয়োজনীয়। শক্তিশালী ইমিউন সিস্টেমের মাধ্যমে নানা ধরনের রোগের সংক্রমণ এবং রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। যার কারণে করোনা মহামারীর সময় থেকেই বারংবার যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে তা হল, কিভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলা সম্ভব? আর এই প্রশ্নের উত্তরে বলতে হয় যে, আপনার প্রতিদিনের খাবারে কতগুলি বিশেষ খাদ্য যোগ করলেই আপনার ইমিউনিটি পাওয়ার বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যথেষ্টভাবে বাড়ানো সম্ভব। গবেষকদের মতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য স্বাস্থ্যকর জীবনধারার পাশাপাশি আপনার প্রত্যেক দিনের খাদ্য তালিকায় কোন কোন খাবার রয়েছে তার দিকে গুরুত্ব দেওয়াটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

কোন কোন খাবারের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলা সম্ভব:-

১. প্রতিদিনের খাবারে কিছু সবুজ শাকসবজি রাখুন:- আপনার প্রত্যেকদিনের খাবারে তালিকায় বেশ কিছু সবুজ শাকসবজি রাখুন। সবুজ শাকসবজির মাধ্যমে আমাদের দেহের বিভিন্ন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি অত্যন্ত সহজেই পাওয়া যায়, যার ফলে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। বিভিন্ন রিপোর্টে প্রকাশিত তথ্যে জানা গিয়েছে, যে সমস্ত ব্যক্তিরা অনেক বেশি পরিমাণে সবুজ শাকসবজি খেয়ে থাকেন তাদের অসুস্থ হওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কম। পালং শাক, পুঁইশাক, ব্রকলির মতো সবজিগুলিতে থাকে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন (ভিটামিন এ, সি, ই), খনিজ উপাদান এবং ফাইবার, যা আমাদের ইমিউন সিস্টেমের ক্ষমতা বাড়ায় বলেই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

২. ভিটামিন সি যুক্ত খাবার এবং ফল খান:- বিভিন্ন গবেষণার রিপোর্টে জানা গিয়েছে যে, মানব দেহের বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে ভিটামিন সি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ভিটামিন সি মানবদেহে শ্বেত রক্তকণিকার উৎপাদন বাড়িয়ে তোলে, যা আপনাকে যে কোন রোগ এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করবে। সুতরাং শরীরে ভিটামিন সি -এর পরিমাণ বাড়িয়ে তোলার জন্য আপনার রোজকার খাদ্য তালিকায় অবশ্যই লেবু, পাকা পেঁপে, পেয়ারা, আম এর মত ফল রাখুন। পাতিলেবু, কমলালেবুর মত ফলগুলিতে ভরপুর ভিটামিন সি রয়েছে, এমনকি আমলকিতেও প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি রয়েছে। সরাসরি এই ফলগুলি খেতে সমস্যা হলে কমলালেবু, আমলকির জুস করে খেতে পারেন। এছাড়াও যেকোন ধরনের সবুজ শাক, আলু, ব্রকোলি, টমেটোর মতো ভিটামিন সি যুক্ত খাবারগুলিও যাতে আপনার খাদ্য তালিকায় থাকে সেদিকে বিশেষ ভাবে নজর দিন। খাদ্য তালিকায় ভিটামিন সি যুক্ত খাবার থাকলে একদিকে যেমন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে অন্যদিকে ঠিক তেমনভাবেই গুরুতর কোনো রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকিও কমবে।

৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে মশলার ভূমিকা:- হলুদ, আদা, লবঙ্গ, গোলমরিচ, দারুচিনি -এর মত বেশ কিছু মশলা রয়েছে যেগুলি মানুষের ইমিউনিটি পাওয়ার বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। হলুদে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কাশির সমস্যা দূর করতেও সাহায্য করে। সুতরাং সুস্থ থাকতে প্রত্যেক দিন সকালে এক টেবিল চামচ হলুদ এক গ্লাস গরম জলে মিশিয়ে খালি পেটে খেতে হবে। তবে শুধুমাত্র হলুদ নয় আদাতেও রয়েছে বেশ কিছু অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান, যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। এছাড়াও চা বা কফির সাথে প্রত্যেকদিন দারুচিনি মিশিয়ে খেলে আপনার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে বলেই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। দারুচিনিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা সুগার, আর্থারাইটিস এমনকি ক্যান্সারের মতো রোগ প্রতিরোধেও সহায়তা করে। এছাড়াও মেথি, জিরে, ধনে, রাই সর্ষের মত মসলাগুলিও দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

আরও পড়ুন:- লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে উঠে এলো নতুন আপডেট, জেনে নিন এখনই।

৪. প্রতিদিনের খাবারে থাকুক দুধ অথবা দুগ্ধজাত দ্রব্য:- দই, দুধ, পনির, ছানার মত দ্রব্যগুলি যথেষ্ট পরিমাণে প্রোটিন সমৃদ্ধ হওয়ায় এগুলি আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে। দইয়ে প্রচুর পরিমাণ প্রোবায়োটিক থাকে, যা হজম শক্তিকে বাড়িয়ে তুলতে এবং অন্ত্রে উপস্থিত ভালো ব্যাকটেরিয়াকে বাড়তে সাহায্য করে। অন্যদিকে প্রতিদিনের খাবারে বেশ খানিকটা দুধ থাকলে অস্টিওপোরোসিস ও হাড়ের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এমনকি ওজন নিয়ন্ত্রণেও দুধ সহায়তা করে। এছাড়াও ঘুমের সমস্যা নিরাময়েও দুধ সহায়তা করে।

৫. খাদ্য তালিকায় রাখুন বাজরা, মধু এবং ড্রাই ফ্রুটস:- বাজরায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে, ওজন কমাতে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে। এছাড়াও বিভিন্ন রিপোর্ট অনুসারে জানা গিয়েছে যে, বাজরা মানবদেহের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং পরিপাকতন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও এটি ভালো। মধুতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা হজম ও অন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এছাড়াও মধু গলা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। সুতরাং শরীর সুস্থ রাখতে চা কিংবা কফিতে অতিরিক্ত চিনির বদলে মধু ব্যবহার করুন। আখরোট, কাঠবাদাম, কাজু, পেস্তা -এর মত বিভিন্ন ধরনের ড্রাই ফ্রুটসে প্রচুর পরিমাণ খনিজ উপাদান, ভিটামিন রয়েছে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। তবে প্রচুর পরিমাণ ড্রাইভ ফ্রুটস খেলে তা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক সুতরাং যথেষ্ট সাবধানতার সঙ্গে ড্রাই ফ্রুটস খান এবং শরীরের ইমিউনিটি পাওয়ার বাড়িয়ে তুলুন।

৬. প্রতিদিনের খাবারে থাকুক ভরপুর প্রোটিন:- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে এবং সুস্থ থাকতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবারের পাশাপাশি প্রোটিনও প্রয়োজন। ছোট মাছ, সামুদ্রিক মাছ, মাংস, ডিম থেকে শুরু করে পনির, সয়াবিন, রাজমা, বিনস এবং নানা ধরনের ডালেও প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে, যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বজায় রাখতে সাহায্য করে। ডাল এবং রাজমার মতো দানাশস্যগুলিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন এবং ফাইবার যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

৭. খাদ্য তালিকায় থাকুক গ্রিন টি:- গ্রিন টি -তে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। সুতরাং ইমিউনিটি পাওয়ার বাড়াতে সাধারণ চায়ের বদলে গ্রিন টি খাওয়া শুরু করতে পারেন। এছাড়াও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি গ্রিন টি -এর আরও একটি গুণ রয়েছে। প্রতিনিয়ত গ্রিন টি পান করলে ত্বকের সমস্যা দূর হয়।