TRAI: মোবাইলে এবার 10 এর বদলে 13 টি নম্বর। সম্পূর্ণ বদলে যাচ্ছে নিয়ম। বড়সড় সিদ্ধান্ত টেলিকম বিভাগের

ভারতবর্ষের জনসংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। আর জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে ফোন নম্বরের ব্যবহার। মাথাপিছু প্রায় প্রত্যেকটি মানুষ এখন নিজ নিজ সেলফোন ব্যবহার করেন। আবার অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় বেশ কিছু মানুষ একের বদলে দুইটি ফোন ব্যবহার করেন। এদিকে চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে মোবাইল কোম্পানিগুলি একাধিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে।

তাই এবার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল ট্রাই (TRAI)। টেলিকম রেগুলেটারি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (TRAI)-এর তরফে মোবাইল ফোন নম্বরে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে চলেছে। ট্রাই (TRAI) সিদ্ধান্ত নিয়েছে এক বড়সড় বদল আসতে চলেছে। আর সেই বদলের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নতুন নিয়মনীতি সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন আমজনতা। কিন্তু টেলিকম দপ্তরের (TRAI) সেই যুগান্তকারী পদক্ষেপ কি? এর দ্বারা আদৌ কি উপকৃত হবেন সাধারণ মানুষ?

TRAI-এর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ

প্রথমদিকে মোবাইল ফোন আসার পর জনতার ভরসা ছিল 2G নেটওয়ার্ক ও সিম কার্ড। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে, টেকনোলজির কল্যাণে নেটওয়ার্কের স্পিড বাড়ছে। 2G সিম কার্ড থেকে 3G, 4G যুগ পেরিয়ে এখন আমরা এসে দাঁড়িয়েছি 5G সিমের যুগে। টেলিকম সংস্থাগুলি আরও দ্রুত পরিষেবা দেওয়ার জন্য সমানে প্রচেষ্টা চালিয়ে চলেছে। আর‌ তা আমরা দেখতে পাচ্ছি নেটওয়ার্ক অগ্রগতির সূত্র ধরে।

একইসঙ্গে বাড়ছে টেলিকম বাজারে প্রতিযোগিতা। বাড়ছে মোবাইল ফোন, নেটওয়ার্কের জন্য মানুষের চাহিদা। আগে যেখানে মোবাইল ফোন কেবলমাত্র কথা বলার ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হত, বর্তমানে সারাদিনের বিভিন্ন কাজ, ব্যবসা -বাণিজ্য, কেনাকাটা, সমস্তটাই চলে হাতের স্মার্টফোনের মাধ্যমে। যার কারণ হিসেবে বলা যায় নেটওয়ার্ক‌ ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান চাহিদা অত্যাধিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েই চলেছে।

ইতোমধ্যে সূত্রের খবর, বাজারে 5G সিম আসার পর মোবাইল নম্বরিং-এ ক্রমাগত সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তার মধ্যে ক্রমাগত বাড়ছে গ্রাহক সংখ্যা। একদিকে গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি, অন্যদিকে নম্বরিংয়ে সমস্যা এই দুই মিলিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বহু টেলিকম সংস্থা। গ্রাহকদের পরিষেবা তো আর মাঝপথে থামিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়, তাই বিকল্প চিন্তা করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো। ‌টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (TRAI) ভাবছে আলাদা নম্বর দেওয়ার কথা। বহু বছর পর একটি বড়সড় পরিবর্তন আনবে ট্রাই। ‌

এই পরিবর্তনের ফলে আমজনতা যেভাবে সুবিধা পাবেন, টেলিকম কোম্পানিগুলিও‌ তাদের গ্রাহক দের পরিষেবা দেওয়ার পথে বাধার সম্মুখীন হবে না। মোবাইল নম্বর নিয়ে ট্রাই যে (TRAI) পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মোটামুটি প্রায় ২১ বছর পর টেলিকম দপ্তর এত বড়সড়ো একটি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে। এর আগে ২০০৩ সালে পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবা হয়েছিল। টেলিকম দপ্তরের পদক্ষেপ বর্তমানে মোবাইল ব্যবহারকারীদের মধ্যে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে?

LPG Gas: রান্নার গ্যাসে 6 লক্ষ টাকার বিমার ব্যবস্থা করল সরকার। বিশেষ পরিস্থিতিতে মিলবে সুবিধা। কিভাবে আবেদন করবেন? জেনে নিন

21 বছর পর TRAI-এর পদক্ষেপ

মোটামুটি প্রায় ২১ বছর পর বড়সড় সিদ্ধান্তটি নিল টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া TRAI. সূত্রের খবর এর আগে ২০০৩ সালে টেলিকম দপ্তর এইরকম একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তারপর কেটে গিয়েছে অনেকগুলি বছর। এদিকে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়তি চাহিদা দুয়ের প্রকোপে পুনরায় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হল TRAI. বর্তমান যে সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তার সমাধান স্বার্থে নতুন একটি পরিকল্পনা করেছে ট্রাই (TRAI)।

জানা যাচ্ছে, টেলিকম দপ্তর জাতীয় সংখ্যার পরিবর্তন পরিকল্পনা করছে। ভারতের মোবাইল ফোনে জাতীয় সংখা মোটামুটি দশটি ডিজিটের। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্ত বলছে, ১০ ডিজিট বদল করে ১১, কিংবা ১৩ করা হতে পারে। সম্প্রতি এমনটা ভাবছে ট্রাই। সেক্ষেত্রে একটি কল করলে ১০-এর বেশি নম্বর দৃশ্যমান হবে। আর সেটাই চলে আসছে নতুন নিয়মের আওতায়।

Government Scheme Pension 2024: দেশবাসীকে ৫০০০ টাকা করে দিচ্ছে মোদি সরকার। চাকরি না করেও পেনশন পাবেন। কিভাবে আবেদন জানাবেন? জেনে নিন

মোবাইল নম্বরিং-এ TRAI এর নতুন প্ল্যান

2003 সালে নাগাদ যখন ট্রাই এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করেছিল, তখন সারা দেশজুড়ে 750 মিলিয়ন টেলিফোন সংযোগের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল সংখ্যা। 2003 সালের ঠিক 21 বছর পর কিন্তু সংখ্যার কম পড়েছে। এদিকে দেখা যাচ্ছে, দেশের সমস্ত নেটওয়ার্ক প্রদানকারীরা ক্রমাগত তাঁদের পরিষেবায় পরিবর্তন করায়, সংযোগের সংখ্যাও সময়ের সঙ্গে দ্রুত হারে বেড়েছে। আর সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে গ্রাহক সংখ্যা।

2024 সালের হিসেব বলছে, বর্তমানে ভারতের টেলিফোন গ্রাহকের সংখ্যা 1199.28 মিলিয়ন জন। চলতি বছরের 31 মার্চ পর্যন্ত দেখা একটি পরিসংখ্যান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বলা যায়, ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় 85 শতাংশ। তাই গ্রাহক যাতে সুষ্ঠু পরিষেবা পান, নম্বর জনিত সমস্যাগুলি দূর হয়, তার জন্যই এই মোবাইল নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ১১ কিংবা ১৩ করা হতে পারে।

রিসাইকেল নম্বরগুলি পুনরায় ব্যবহার হবে

এছাড়া টেলিকম বিভাগ (TRAI) আরও বেশ কিছু পদক্ষেপের চিন্তাভাবনা করেছে। যেমন, অনেক গ্রাহক হয়তো তাঁর কোনো একটি মোবাইল নম্বর একসময় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করেননি। যার ফলে সেটি ৯০ দিনের বেশি বন্ধ রয়েছে। এমন বহু মোবাইল নম্বর রিসাইকেল করে নতুন ব্যবহারকারীকে দেওয়া হচ্ছে। টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের তরফে টেলিকম কোম্পানি গুলির কাছে নির্দেশ গেছে, তাঁরা যেন রিসাইকেল নম্বরগুলি ইস্যু করেন। আর এই সকল পদক্ষেপের ফলস্বরূপ টেলিকম বিভাগ আরো অনেক ব্যবহারকারীকে মোবাইল নম্বর বরাদ্দ করতে পারবে।